ExploreBangladesh
English

দেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়গুলো বান্দরবানে। মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে সাঙ্গু নদী, পাহাড়ের গায়ে গায়ে মারমা, বম, ম্রোসহ নানা আদিবাসী পাড়া। গাড়ির রাস্তা উঠে গেছে মেঘের ওপরের ভিউপয়েন্টে, আর লম্বা ট্রেকে পৌঁছানো যায় পাহাড়ের চূড়ার লেক আর দুর্গম ঝরনায়। এখানে নিরাপত্তার নিয়ম প্রায়ই বদলায়, তাই হালনাগাদ অনুমতি আর সরকারি নির্দেশনা জেনে তবেই পরিকল্পনা করুন।

এক নজরে

ঢাকা থেকে
সড়কপথে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার, বাসে বা গাড়িতে মোটামুটি ৮–১১ ঘণ্টা
খরচ
থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে জনপ্রতি দিনে ৮৫০–৩,৩৫০ টাকা (২০২৬ সালের দাম)
যাওয়ার সেরা সময়
পরিষ্কার দৃশ্যের জন্য অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি, ঝরনা আর মেঘের জন্য জুন–সেপ্টেম্বর
ঘোরার জায়গা
১০টা, যেমন নীলগিরি, নীলাচল আর বগা লেক

সময় আর খরচ আমাদের প্ল্যানার আর সংগ্রহ করা দামের হিসাব। যাওয়ার আগে একবার মিলিয়ে নিন।

কীসের জন্য বিখ্যাত
  • নীলগিরি আর নীলাচল
  • বগা লেক
  • নাফাখুম জলপ্রপাত
  • স্বর্ণ মন্দির
  • সাংগ্রাই জলোৎসব

ঘোরার জায়গা

নীলগিরি ঘোরার জায়গা

নীলগিরি

Nilgiri

থানচির রাস্তায় পাহাড়ের চূড়ার রিসোর্ট। সকালে দাঁড়ালে পায়ের নিচে মেঘের সমুদ্র।

নীলাচল ঘোরার জায়গা

নীলাচল

Nilachal

শহরের কাছেই পাহাড়চূড়ার ভিউপয়েন্ট। সূর্য ডোবার সময় উপত্যকাগুলো নীলের স্তরে মিলিয়ে যায়।

বগা লেক ঘোরার জায়গা

বগা লেক

Boga Lake

রুমার কাছে পাহাড়ের অনেক ওপরে গভীর, শান্ত এক লেক। চারপাশে বন আর ছোট একটা বম পাড়া।

নাফাখুম জলপ্রপাত ঘোরার জায়গা

নাফাখুম জলপ্রপাত

Nafakhum Waterfall

রেমাক্রি খালের চওড়া, গর্জন করা ঝরনা। থানচি থেকে নৌকা আর ট্রেক করে যেতে হয়।

বুদ্ধ ধাতু জাদি (স্বর্ণ মন্দির) ঘোরার জায়গা

বুদ্ধ ধাতু জাদি (স্বর্ণ মন্দির)

Buddha Dhatu Jadi (Golden Temple)

শহরের কাছে পাহাড়চূড়ায় ঝকঝকে থেরবাদী বৌদ্ধ মন্দির, গড়ন মিয়ানমারের প্যাগোডার মতো।

শৈলপ্রপাত ঘোরার জায়গা

শৈলপ্রপাত

Shoilo Propat

বান্দরবান শহরের কাছে রাস্তার ধারেই ঝরনা। ওপরে বম গ্রামের লোকজন হাতে বোনা কাপড় বিক্রি করেন।

কেওক্রাডং ঘোরার জায়গা

কেওক্রাডং

Keokradong

দেশের সবচেয়ে পরিচিত চূড়াগুলোর একটা। বগা লেক আর দার্জিলিং পাড়া পেরিয়ে হেঁটে উঠতে হয়।

খাবার

মুন্ডিপ্রতীকী ছবি খাবার

মুন্ডি

Mundi

টক‑ঝাল ঝোলে নরম চালের নুডলস। বান্দরবানের রাস্তার পরিচিত নাশতা।

বাঁশকোড়লপ্রতীকী ছবি খাবার

বাঁশকোড়ল

Bashkorol (Bamboo Shoot)

কচি বাঁশের কোড়ল দিয়ে তরকারি, ভাজি আর স্যুপ, পাহাড়ি পাড়ার রোজকার খাবার।

নাপ্পিপ্রতীকী ছবি খাবার

নাপ্পি

Nappi

মাছ আর চিংড়ি গাঁজিয়ে বানানো ঝাঁঝালো পেস্ট। মারমাদের প্রায় সব রান্নায় এটা লাগে।

তোজাহ ও লাকসুপ্রতীকী ছবি খাবার

তোজাহ ও লাকসু

Tojah and Laksu

মারমাদের দুই পদ: মরিচ আর চিংড়ির পেস্ট দিয়ে সেদ্ধ সবজির তোজাহ, আর পাহাড়ি মরিচে মুরগির ঝাল লাকসু।

পাহাড়ি পেঁপে, কলা ও আম খাবার

পাহাড়ি পেঁপে, কলা ও আম

Hill Papaya, Banana and Mango

পাহাড়ের বাগান আর জুমের ঢালে ফলানো ফল। বান্দরবানের রাস্তার পাশের বাজারে টাটকা পাওয়া যায়।

অচেনা জায়গা

ঐতিহ্য

২০২৬ সালের দাম রুমপ্রতি এক রাতের ভাড়া
সাধারণ হোটেল
৳৬০০–২,০০০
ভালো হোটেল
৳২,০০০–৪,৫০০
অভিজাত রিসোর্ট
৳৬,০০০–১৫,০০০

ভিড়ের সময়: ঈদ আর শীতের ছুটিতে শহর, মেঘলা আর নীলাচলের হোটেল-রিসোর্টে জায়গা পাওয়া কঠিন, আগে বুকিং দিন।

হোটেলের নাম ও দাম (৫টি)
এই জেলার ৬টি হোটেলের রুম ধরে ভাড়া দেখুন →
দামগুলো কোথা থেকে

সস্তা হোটেলের দাম প্রথম আলোর নভেম্বর ২০২৪ সালের লেখা থেকে (শহরে ৫০০ টাকা থেকে রুম, ভালো রুমও দুই হাজারের মধ্যে); মাঝারি দাম পর্যটন মোটেলের ২০২৬ সালের ভাড়া আর রিসোর্টের কটেজ থেকে; প্রথম আলোর মে ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বান্দরবানে রুম ১,৮০০ থেকে ২৩ হাজার টাকা, তাই দামি স্তরটা আনুমানিক।

দাম নেওয়া হয়েছে সংবাদপত্র, পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট আর হোটেলের নিজেদের দেওয়া তথ্য থেকে। বুক করার আগে হোটেলে ফোন করে দামটা জেনে নিন।

কোথায় খাবেন, খরচ কত

২০২৫ সালের দাম জনপ্রতি দিনে খাওয়ার খরচ
সাধারণ হোটেল ৳৫৩০
নাশতা ৳৭০দুপুর ৳১৮০রাত ৳২২০চা‑নাশতা ৳৬০
ভালো রেস্টুরেন্ট ৳১,১২০
নাশতা ৳১৫০দুপুর ৳৪০০রাত ৳৪৫০চা‑নাশতা ৳১২০
অভিজাত তথ্য নেই

এই জেলায় দিনে জনপ্রতি থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে মোটামুটি ৳৮৫০–৩,৩৫০

কম দামটা সাধারণ হোটেল আর সাধারণ খাওয়া ধরে, বেশিটা ভালো হোটেল আর ভালো রেস্টুরেন্ট ধরে। দুজন এক রুমে থাকবেন ধরে জনপ্রতি রুম ভাড়ার অর্ধেক যোগ করেছি। যাতায়াত, টিকিট আর অভিজাত হোটেল‑রেস্টুরেন্টের খরচ এর বাইরে।

রেস্টুরেন্ট আর খাবারের দাম (৩টি)
  • নীলা মুন্ডি হাউস উজানীপাড়া, বান্দরবান শহর
    • মুন্ডি · ৳২০/বাটি
    সাধারণ হোটেল ২০২৫ সালের দাম · সূত্র
  • উয়ই রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড মুন্ডি কাবাব হাউস থানচি বাজার, থানচি
    • মুন্ডি · ৳৩০/বাটি
    সাধারণ হোটেল ২০২৫ সালের দাম · সূত্র
  • রি খ্যাইং উজানীপাড়া, বান্দরবান শহর
    • হাঁসের মাংস · ৳৩০০/প্লেট
    • তোজা · ৳৫০/বাটি
    • বাঁশকোড়ল · ৳১৫০/প্লেট
    • কাঁকড়ার তরকারি · ৳১৫০/প্লেট
    ভালো রেস্টুরেন্ট ২০২৫ সালের দাম · সূত্র

চেখে দেখুন

  • মুন্ডি বান্দরবান শহর আর রুমা‑থানচি বাজারে মারমাদের ছোট দোকানে প্রতি বাটি মোটামুটি ৪০–১০০ টাকা
  • বাঁশকোড়ল বান্দরবান শহরের আদিবাসী রেস্তোরাঁ আর পাহাড়ের হোমস্টেতে
  • নাপ্পি বান্দরবান শহরের উজানীপাড়ায় মারমাদের খাবারের দোকান; ছোট বয়ামে কিনতে পাবেন শহরের বাজারে
  • তোজাহ ও লাকসু বান্দরবান শহরের উজানীপাড়ায় রে খ্যাইং রেস্তোরাঁ, আর উজানীপাড়া‑মধ্যমপাড়ার অন্য মারমা খাবারের দোকান স্থানীয় দোকানে প্রতিটি পদ মোটামুটি ৫০–১২০ টাকা
  • পাহাড়ি পেঁপে, কলা ও আম বান্দরবান–চিম্বুক সড়কের পাশের ফলের বাজার, আর বান্দরবান শহরের বাজার
দামগুলো কোথা থেকে

বাজেট হিসাবে শহরে ৭০ টাকার নাশতা, বগালেকের পাশে ১৮০ টাকার দুপুরের প্যাকেজ আর ২০-৩০ টাকার এক বাটি মুন্ডি ধরা হয়েছে; মাঝারিতে রি খ্যাইংয়ে মারমা খাবার (২০২৫ সালের দাম: হাঁসের মাংস ৩০০, তোজা ৫০) বা ২৫০-৫০০ টাকার ব্যাম্বু চিকেন; দামি রেস্তোরাঁর দাম পাইনি।

দাম সংবাদপত্র আর রেস্টুরেন্টের নিজস্ব তথ্য থেকে; সময়ের সঙ্গে বদলায়।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

বান্দরবান গেলে কোথায় কোথায় ঘুরবেন?

বান্দরবানের নামকরা জায়গার মধ্যে আছে নীলগিরি, নীলাচল, বগা লেক, নাফাখুম জলপ্রপাত আর বুদ্ধ ধাতু জাদি (স্বর্ণ মন্দির)। আমাদের গাইডে বান্দরবানের মোট ১০টা ঘোরার জায়গার খোঁজ আছে, প্রতিটায় কীভাবে যাবেন আর কখন যাবেন সেটাও লেখা।

ঢাকা থেকে বান্দরবান যেতে কত সময় লাগে?

সড়কপথে ঢাকা থেকে বান্দরবান প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার। বাসে বা গাড়িতে মোটামুটি ৮–১১ ঘণ্টা লাগে, পথে জ্যাম কেমন তার ওপর অনেকটা নির্ভর করে।

বান্দরবান ঘুরতে খরচ কেমন?

সাধারণ হোটেলে এক রাতের রুম ভাড়া ৬০০–২,০০০ টাকা, ভালো হোটেলে ২,০০০–৪,৫০০ টাকা। দুজনে এক রুমে থাকলে থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে জনপ্রতি দিনে মোটামুটি ৮৫০–৩,৩৫০ টাকা পড়ে। ঢাকা থেকে যাওয়া‑আসার ভাড়া এর বাইরে। এগুলো ২০২৬ সালের দাম।

বান্দরবান যাওয়ার সেরা সময় কখন?

পরিষ্কার দৃশ্যের জন্য অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি, ঝরনা আর মেঘের জন্য জুন–সেপ্টেম্বর।

বান্দরবান গিয়ে কী খাবেন?

বান্দরবানের খাবারের মধ্যে চেখে দেখুন মুন্ডি, বাঁশকোড়ল, নাপ্পি আর তোজাহ ও লাকসু। কোনটা কোথায় পাবেন, তা প্রতিটার পাতায় লেখা আছে।

কাছের জেলা