
সুনামগঞ্জ Sunamganj
হাওরের জল, সীমান্তের পাহাড় আর মরমি গান
সুনামগঞ্জ মানেই হাওর। শুকনো মৌসুমে যেখানে মাঠ আর বিল, বর্ষায় সেখানে চারদিকে শুধু পানি, যেন ডাঙার মাঝখানে সাগর। উত্তরের সীমান্ত ঘেঁষে হঠাৎ খাড়া উঠে গেছে মেঘালয়ের পাহাড়। টাঙ্গুয়ার হাওর গিয়ে মিশেছে পাহাড়ের কোলে, সীমান্তের কাছে পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যায় কাচের মতো স্বচ্ছ নদী। আর গ্রামে গ্রামে এখনো হাছন রাজা আর শাহ আবদুল করিমের গান শুনবেন।
- টাঙ্গুয়ার হাওর
- নীলাদ্রি লেক
- বারিক্কা টিলা আর যাদুকাটা নদী
- হাছন রাজা
- শাহ আবদুল করিম
ঘোরার জায়গা
ঘোরার জায়গা টাঙ্গুয়ার হাওর
Tanguar Haorমেঘালয়ের পাহাড়ের নিচে বিশাল রামসার জলাভূমি। সংরক্ষিত এলাকার ভেতরে পর্যটকের নৌকা আপাতত বন্ধ, যাওয়ার আগে খোঁজ নিন।
ঘোরার জায়গা নীলাদ্রি লেক
Niladri Lakeটেকেরঘাটের পুরনো চুনাপাথরের খাদে জমে থাকা গাঢ় নীল পানির লেক, ওপারেই সীমান্তের সবুজ পাহাড়।
প্রতীকী ছবি ঘোরার জায়গা বারিক্কা টিলা ও যাদুকাটা নদী
Barikka Tila and Jadukata Riverঘাসে ঢাকা টিলা। নিচ দিয়ে মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসছে স্বচ্ছ পানির যাদুকাটা নদী।
ঘোরার জায়গা শিমুল বাগান, তাহিরপুর
Shimul Bagan, Tahirpurবিশাল এক শিমুল বাগান। শীতের শেষে ফুল ফুটে পুরোটা টকটকে লাল হয়ে যায়।
ঘোরার জায়গা পাগলা জামে মসজিদ (রায়পুর বড় মসজিদ)
Pagla Jame Mosque (Raypur Boro Masjid)মহাসিং নদীর পাড়ে কারুকাজ করা তিন গম্বুজের মসজিদ। তিরিশের দশকে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী কলকাতা‑দিল্লির কারিগর এনে বানিয়েছিলেন।
প্রতীকী ছবি ঘোরার জায়গা হাছন রাজার বাড়ি ও জাদুঘর, সুনামগঞ্জ
Hason Raja's Home and Museum, Sunamganjসুনামগঞ্জ শহরে মরমি কবি হাছন রাজার পারিবারিক বাড়ি। ভেতরে তাঁর ব্যবহারের জিনিস নিয়ে ছোট জাদুঘর।
খাবার
ঐতিহ্য
কোথায় থাকবেন
সব জেলার হোটেল ভাড়া দেখুন →- সাধারণ হোটেল
- ৳২০০–১,০০০
- ভালো হোটেল
- ৳১,৫০০–২,৫০০
- অভিজাত রিসোর্ট
- ৳১০,০০০–১২,০০০
ভিড়ের সময়: হাউসবোট মূলত বর্ষায় (জুন-সেপ্টেম্বর) চলে; সপ্তাহান্তে আর পূর্ণিমার রাতে ভাড়া বেশি।
হোটেলের নাম ও দাম (১টি)
- হিজল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট টেকেরঘাট, তাহিরপুর
দামগুলো কোথা থেকে
সস্তা হোটেলের দাম ডেইলি স্টারের নভেম্বর ২০২২ সালের গাইড থেকে: সুনামগঞ্জ শহরে মানভেদে ২০০ থেকে ১,০০০ টাকা (২০২৬ সালে ভাড়া কিছুটা বেশি হতে পারে)। মাঝারি দাম টেকেরঘাটের হিজল রিসোর্ট থেকে (জানুয়ারি ২০২৫ সালে ১,৫০০-২,৫০০ টাকা)। দামি স্তরে টাঙ্গুয়ার হাওরের হাউসবোটের কেবিন ধরা: দুই দিন এক রাতের জন্য কেবিনপ্রতি ১০-১২ হাজার টাকা (জানুয়ারি ২০২৫)। ২০২৬ সালে হাউসবোট মালিকদের সংগঠন বলছে, খাওয়াসহ নন-এসি বোটে জনপ্রতি ৪-৮ হাজার আর এসি বোটে ৮-১৪ হাজার টাকা।
দাম নেওয়া হয়েছে সংবাদপত্র, পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট আর হোটেলের নিজেদের দেওয়া তথ্য থেকে। বুক করার আগে হোটেলে ফোন করে দামটা জেনে নিন।
কোথায় খাবেন, খরচ কত
এই জেলার খাওয়ার খরচ আশপাশের জেলার দাম দেখে আন্দাজ করা। নিচে কোনো রেস্টুরেন্টের নাম থাকলে, তার দাম আলাদা সূত্র থেকে নেওয়া।
এই জেলায় দিনে জনপ্রতি থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে মোটামুটি ৳৪৫০–১,৯৫০
কম দামটা সাধারণ হোটেল আর সাধারণ খাওয়া ধরে, বেশিটা ভালো হোটেল আর ভালো রেস্টুরেন্ট ধরে। দুজন এক রুমে থাকবেন ধরে জনপ্রতি রুম ভাড়ার অর্ধেক যোগ করেছি। যাতায়াত, টিকিট আর অভিজাত হোটেল‑রেস্টুরেন্টের খরচ এর বাইরে।
এই জেলার রেস্টুরেন্টের দাম আমাদের হাতে নেই।
চেখে দেখুন
- হাওরের হাঁসের মাংস সুনামগঞ্জ শহর আর তাহিরপুর বাজারের খাবার হোটেল
- হাওরের তাজা মাছ তাহিরপুর আর সুনামগঞ্জ শহরের বাজার ও খাবার হোটেল
দামগুলো কোথা থেকে
এই জেলার আলাদা কোনো খাবারের দামের জরিপ পাইনি। সস্তা হোটেলের হিসাব ঢাকার বাইরের ভাতের হোটেলের খবর থেকে (মাছ বা মাংস দিয়ে ভাত ৮০-১৫০ টাকা, ভাত-ভর্তা-ডালের নাশতা ২০-৫০ টাকা, ২০২৩-২০২৬), আর মাঝারি হিসাব শহরের ভালো রেস্তোরাঁ বা চেইন দোকানের দাম দেখে। টাঙ্গুয়ার হাওরের হাউসবোট প্যাকেজে খাওয়াদাওয়া ধরা থাকত (দুই দিন এক রাত, জনপ্রতি মোটামুটি ৫,০০০-১০,০০০ টাকা)। তবে ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে জেলা প্রশাসন হাওরের সংরক্ষিত সীমানার ভেতরে হাউসবোট চলাচল বন্ধ রেখেছে, পরের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত।
দাম সংবাদপত্র আর রেস্টুরেন্টের নিজস্ব তথ্য থেকে; সময়ের সঙ্গে বদলায়।



