
খাগড়াছড়ি Khagrachhari
গুহা, পাহাড়ি ছড়া আর সাজেক যাওয়ার পথ
পার্বত্য চট্টগ্রামের তুলনামূলক শান্ত কোণ খাগড়াছড়ি। এখানে চাকমা, মারমা আর ত্রিপুরাদের বাস। আছে এমন এক গুহা, যার ভেতরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার, মশাল বা টর্চ জ্বেলে হেঁটে পার হতে হয়। আছে ঢালু পাথরের ওপর দিয়ে গড়িয়ে নামা ঝরনা, আর পাহাড়চূড়ায় এক পবিত্র হ্রদ। বেশির ভাগ মানুষ সাজেক যাওয়ার পথে শুধু পার হয়ে যান। অথচ খাগড়াছড়িতে আলাদা করে এক‑দুই দিন থাকলে ঠকবেন না।
- আলুটিলা গুহা
- রিছাং ঝর্ণা
- সাজেক যাওয়ার পথ
- ত্রিপুরা সংস্কৃতি
- পাহাড়ি মাল্টা
ঘোরার জায়গা
ঘোরার জায়গা আলুটিলা গুহা
Alutila Caveপাহাড়ের নিচ দিয়ে চলে যাওয়া ছোট্ট এক প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ। ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার, পায়ের নিচে ঠান্ডা পানি, পার হতে হয় আলো জ্বেলে।
ঘোরার জায়গা রিছাং ঝর্ণা
Richhang Waterfallলম্বা, মসৃণ ঢালু পাথরের ওপর দিয়ে পানি গড়িয়ে নামে। স্থানীয় ছেলেমেয়েরা এখানে পিছলে পিছলে খেলে।
ঘোরার জায়গা দেবতা পুকুর (মাতাই পুখিরি)
Debota Pukur (Matai Pukhiri)পাহাড়চূড়ায় এক পবিত্র হ্রদ। স্থানীয় বিশ্বাস, এর পানি কখনো শুকায় না, উপচেও পড়ে না।
ঘোরার জায়গা জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক
District Council Horticulture Parkখাগড়াছড়ি শহরের জিরো মাইলে পাহাড়ি পার্ক। লেকের ওপর ঝুলন্ত সেতু, ওয়াচটাওয়ার আর নতুন কয়েকটা রাইড।
প্রতীকী ছবি ঘোরার জায়গা রামগড় লেক
Ramgarh Lakeরামগড় শহরে টিলাঘেরা ছোট লেক আর পার্ক। কাছেই ফেনী নদী আর ভারত সীমান্ত।
খাবার
খাবার পাহাড়ি মাল্টা
Hill Maltaপাহাড়ের বাগানে ফলানো সবুজ খোসার মিষ্টি মাল্টা। হেমন্তে টাটকা ফল আর রস দুটোই পাওয়া যায়।
খাবার সিদল ও পাহাড়ি রান্না
Sidol and Hill Curriesঝাঁঝালো গন্ধের গাঁজানো মাছের সিদল। পাহাড়িদের অনেক রান্নার স্বাদ আসে এ থেকেই, সঙ্গে বাঁশকোড়ল আর পাহাড়ি শাক।
খাবার হেবাং
Hebang (Bamboo-Cooked Curry)বাঁশের চোঙা বা কলাপাতায় ভরে আগুনে রাঁধা মুরগি, মাছ বা ডিম।
খাবার খাগড়াছড়ির আম্রপালি
Khagrachhari Amrapali Mangoপানছড়ি, গুইমারা আর আশপাশের পাহাড়ি বাগানের আঁশহীন মিষ্টি আম্রপালি।
ঐতিহ্য
কোথায় থাকবেন
সব জেলার হোটেল ভাড়া দেখুন →- সাধারণ হোটেল
- ৳৫০০–২,০০০
- ভালো হোটেল
- ৳২,৫০০–৫,৫০০
- অভিজাত রিসোর্ট
- তথ্য নেই
ভিড়ের সময়: সাজেকগামী অনেকেই খাগড়াছড়ি শহরে এক রাত থাকেন, তাই লম্বা ছুটিতে রুম পাওয়া কঠিন হয়।
হোটেলের নাম ও দাম (৩টি)
- গাঙচিল আবাসিক হোটেল খাগড়াছড়ি শহর
- হোটেল অবকাশ আবাসিক বাস টার্মিনাল এলাকা, খাগড়াছড়ি শহর
- পর্যটন মোটেল খাগড়াছড়ি খাগড়াছড়ি শহর
দামগুলো কোথা থেকে
সস্তা হোটেলের দাম প্রথম আলোর মে ২০২৬ সালের প্রতিবেদন থেকে: খাগড়াছড়ি শহরের গাঙচিলে ৭০০-২,০০০, হোটেল নূরে ৫০০-৩,৫০০, আল-আমিনে ৫০০-২,৫০০, অবকাশে ৮০০-৩,০০০ টাকা; ৫০০ টাকার নিচে রুম পাওয়া কঠিন। আগস্ট ২০২৫ সালের আরেক প্রতিবেদনেও শহরের হোটেলভাড়া ৫০০-৩,৫০০ টাকা। মাঝারি দাম পর্যটন মোটেলের ২০২৬ সালের ভাড়া থেকে।
দাম নেওয়া হয়েছে সংবাদপত্র, পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট আর হোটেলের নিজেদের দেওয়া তথ্য থেকে। বুক করার আগে হোটেলে ফোন করে দামটা জেনে নিন।
কোথায় খাবেন, খরচ কত
এই জেলায় দিনে জনপ্রতি থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে মোটামুটি ৳৬৫০–৩,৪৫০
কম দামটা সাধারণ হোটেল আর সাধারণ খাওয়া ধরে, বেশিটা ভালো হোটেল আর ভালো রেস্টুরেন্ট ধরে। দুজন এক রুমে থাকবেন ধরে জনপ্রতি রুম ভাড়ার অর্ধেক যোগ করেছি। যাতায়াত, টিকিট আর অভিজাত হোটেল‑রেস্টুরেন্টের খরচ এর বাইরে।
রেস্টুরেন্ট আর খাবারের দাম (৩টি)
- কল্যাণী রেস্তোরাঁ মহাজনপাড়া, খাগড়াছড়ি শহর
- মাছ বা মাংস আর একটা সবজি দিয়ে পাহাড়ি খাবারে ভাত (১২০ টাকা থেকে) · ৳১২০/প্লেট
সাধারণ হোটেল ২০২৫ সালের দাম · সূত্র - সিস্টেম রেস্তোরাঁ পানখাইয়াপাড়া, খাগড়াছড়ি শহর
- মাছ বা মাংস আর একটা সবজি দিয়ে পাহাড়ি খাবারে ভাত (১২০-২৫০ টাকা) · ৳২৫০/প্লেট
- ফলের জুস (৪০-৮০ টাকা) · ৳৮০/গ্লাস
ভালো রেস্টুরেন্ট ২০২৫ সালের দাম · সূত্র - জুমঘর রেস্তোরাঁ দীঘিনালা-বাবুছড়া সড়ক, পুলিন হেডম্যানপাড়ার কাছে, দীঘিনালা
- দেশি মুরগি, শাক, ডাল আর পাহাড়ি সবজি দিয়ে ভাত, চারজনের (৭০০-৮০০ টাকা) · ৳৭০০/ফুল
- পাহাড়ি পিঠা (১০ টাকা থেকে) · ৳১০/পিস
ভালো রেস্টুরেন্ট ২০২৪ সালের দাম · সূত্র
চেখে দেখুন
- পাহাড়ি মাল্টা খাগড়াছড়ি শহরের বাজারে, আর দীঘিনালা ও মাটিরাঙ্গার পথে রাস্তার ধারের দোকানে
- সিদল ও পাহাড়ি রান্না খাগড়াছড়ি শহরে পাহাড়িদের চালানো রেস্তোরাঁয়
- হেবাং খাগড়াছড়ি শহরের পানখাইয়াপাড়ার সিস্টেম রেস্তোরাঁ আর মহাজনপাড়ার কল্যাণী রেস্তোরাঁ ভাত, এক পদ মাছ‑মাংস আর সবজি মিলিয়ে পাহাড়ি খাবার মোটামুটি ১২০–২৫০ টাকা
- খাগড়াছড়ির আম্রপালি জুন‑জুলাইয়ে খাগড়াছড়ি শহরের বাজার, আর পানছড়ি ও গুইমারার বাগান এলাকা মৌসুমে স্থানীয় বাজারে কেজি মোটামুটি ৭০–১২০ টাকা
দামগুলো কোথা থেকে
প্রথম আলোর জানুয়ারি ২০২৫ সালের প্রতিবেদন বলছে, খাগড়াছড়ি শহরের পাহাড়ি খাবারের রেস্তোরাঁয় মাছ, মাংস আর একটা সবজি দিয়ে পেট ভরে ভাত খেতে ১২০-২৫০ টাকা লাগে, জুস ৪০-৮০ টাকা। ২০২৪ সালে দীঘিনালার জুমঘরে দেশি মুরগি, শাক, ডাল আর পাহাড়ি সবজি দিয়ে চারজনের খাবার পড়ত ৭০০-৮০০ টাকা। সকালের নাশতার দাম আন্দাজে ধরা।
দাম সংবাদপত্র আর রেস্টুরেন্টের নিজস্ব তথ্য থেকে; সময়ের সঙ্গে বদলায়।



