
মৌলভীবাজার Moulvibazar
চা বাগান, ঘন বন আর মণিপুরী নাচ
দেশের চায়ের রাজ্য বলতে মৌলভীবাজার। শ্রীমঙ্গলের চারদিকে যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ চা বাগান। বাগানের ফাঁকে ফাঁকে উঁচু গাছের বন, সেখানে উল্লুকের ডাক শোনা যায়। আছে বিশাল এক হাওর, শীতে যেটা অতিথি পাখিতে ভরে যায়। আর আছে দেশের সবচেয়ে পরিচিত ঝরনাগুলোর একটা। মণিপুরী, খাসিয়া আর চা‑শ্রমিকদের বসবাস মিলিয়ে জেলার সংস্কৃতিও নানা রঙের।
- শ্রীমঙ্গলের চা বাগান
- লাউয়াছড়ার বন
- মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত
- সাত রঙের চা
- মণিপুরী নৃত্য
ঘোরার জায়গা
ঘোরার জায়গা শ্রীমঙ্গলের চা বাগান
Srimangal Tea Gardensছায়াগাছের নিচে ছাঁটা চা গাছে ঢাকা ঢেউখেলানো টিলা। চায়ের রাজধানীর চেনা ছবি এটাই।
ঘোরার জায়গা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
Lawachara National Parkউঁচু গাছের ঘন বন। ভোরবেলা গাছের মাথা থেকে ভেসে আসে উল্লুকের ডাক।
ঘোরার জায়গা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত
Madhabkunda Waterfallবড়লেখার পাহাড়ে খাড়া পাথরের দেয়াল বেয়ে গভীর কুণ্ডে আছড়ে পড়া উঁচু ঝরনা।
ঘোরার জায়গা হাকালুকি হাওর
Hakaluki Haorদেশের সবচেয়ে বড় জলাভূমিগুলোর একটা। বর্ষায় যেন সাগর, শীতে পাখির রাজ্য।
ঘোরার জায়গা বাইক্কা বিল
Baikka Beelহাইল হাওরের ভেতর সারা বছর পানি থাকা অভয়াশ্রম। ওয়াচটাওয়ার থেকে দেখা যায় শাপলা আর শীতের হাঁস।
ঘোরার জায়গা মাধবপুর লেক
Madhabpur Lakeকমলগঞ্জে চায়ের টিলার মাঝে আঁকাবাঁকা লেক। শাপলা আর টিলার ওপর হাঁটার জন্য নাম আছে।
প্রতীকী ছবি ঘোরার জায়গা চা জাদুঘর, শ্রীমঙ্গল
Tea Museum, Srimangalভানুগাছ সড়কে ছোট একটা জাদুঘর, এ দেশের চা বাগানের যন্ত্রপাতি আর ইতিহাস দেখায়।
খাবার
খাবার সাত রঙের চা
Seven-Layer Teaএক গ্লাসে সাতটা আলাদা রঙের স্তর। এই চায়ের জন্ম আর বিক্রি শ্রীমঙ্গলেই।
খাবার শ্রীমঙ্গলের আনারস
Srimangal Pineappleশ্রীমঙ্গলের টিলার ঢালে ফলানো মিষ্টি, রসালো আনারস। গরমে বাজারে স্তূপ হয়ে থাকে।
খাবার চুঙ্গাপুড়া পিঠা
Chunga Pura Pithaসরু ঢলু বাঁশে চাল ভরে সারা রাত খড়ের আগুনে পোড়ানো পিঠা। মৌলভীবাজারের পাহাড়ি গ্রামে শীতের খাবার।
খাবার শ্রীমঙ্গলের লেবু
Srimangal Lemonশ্রীমঙ্গল আর কমলগঞ্জের পাহাড়ি বাগানের রসালো লেবু। দেশের সবচেয়ে বেশি লেবু হয় এখানেই।
খাবার হাইল হাওরের মাছ
Hail Haor Fishহাইল হাওরের বোয়াল, শোল, কই আর ছোট মাছ। শ্রীমঙ্গলের কাছে বরুণা ঘাটে রোজ সকালে ডাকে বিক্রি হয়।
ঐতিহ্য
কোথায় থাকবেন
সব জেলার হোটেল ভাড়া দেখুন →- সাধারণ হোটেল
- ৳১,০০০–২,০০০
- ভালো হোটেল
- ৳২,০০০–৫,৫০০
- অভিজাত রিসোর্ট
- ৳৮,০০০–৩৫,০০০
ভিড়ের সময়: শুক্র-শনিবার আর শীতে রিসোর্ট ভরে যায়; বেশির ভাগ রিসোর্টের ভাড়ার ওপর ১৫% ভ্যাট, কোথাও সার্ভিস চার্জও যোগ হয়।
হোটেলের নাম ও দাম (৬টি)
- শান্তিবাড়ি ইকো রিসোর্ট রাধানগর, শ্রীমঙ্গল
- নিসর্গ ইকো রিসোর্ট চা জাদুঘরের কাছে, শ্রীমঙ্গল
- লেমন গার্ডেন রিসোর্ট লাউয়াছড়া, শ্রীমঙ্গল
- গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্ট রামনগর, শ্রীমঙ্গল
- দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা গিয়াসনগর, শ্রীমঙ্গল
- গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ শ্রীমঙ্গল
দামগুলো কোথা থেকে
মাঝারি আর দামি রিসোর্টের ভাড়া ডেইলি স্টারের ডিসেম্বর ২০২৩ সালের শ্রীমঙ্গলের ১২টি রিসোর্টের তালিকা থেকে; শহরের সাধারণ হোটেলের ভাড়া আনুমানিক, নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি।
দাম নেওয়া হয়েছে সংবাদপত্র, পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট আর হোটেলের নিজেদের দেওয়া তথ্য থেকে। বুক করার আগে হোটেলে ফোন করে দামটা জেনে নিন।
কোথায় খাবেন, খরচ কত
এই জেলায় দিনে জনপ্রতি থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে মোটামুটি ৳৯৫০–৩,৬০০
কম দামটা সাধারণ হোটেল আর সাধারণ খাওয়া ধরে, বেশিটা ভালো হোটেল আর ভালো রেস্টুরেন্ট ধরে। দুজন এক রুমে থাকবেন ধরে জনপ্রতি রুম ভাড়ার অর্ধেক যোগ করেছি। যাতায়াত, টিকিট আর অভিজাত হোটেল‑রেস্টুরেন্টের খরচ এর বাইরে।
রেস্টুরেন্ট আর খাবারের দাম (৫টি)
- পানসী রেস্টুরেন্ট শ্রীমঙ্গল শহর
- দেশি খাবারে এক বেলা, জনপ্রতি (১০০-১৫০ টাকা) · ৳১৫০/প্লেট
সাধারণ হোটেল ২০২৫ সালের দাম · সূত্র - পাঁচ ভাই হোটেল শ্রীমঙ্গল শহর
- দেশি খাবারে এক বেলা, জনপ্রতি (১০০-১৫০ টাকা) · ৳১৫০/প্লেট
সাধারণ হোটেল ২০২৫ সালের দাম · সূত্র - রাজু ভাইয়ের ভাতের হোটেল গ্র্যান্ড সুলতানের উল্টো পাশে, শ্রীমঙ্গল
- ভাত, ভর্তা, রুই মাছ আর ডাল (আটজনের মোট বিল প্রায় ২,০০০ টাকা, পানিসহ) · ৳২৫০/প্লেট
সাধারণ হোটেল ২০২৬ সালের দাম · সূত্র - নীলকণ্ঠ চা কেবিন শ্রীমঙ্গল
- সাত রঙের চা (৭০-৮০ টাকা) · ৳৮০/গ্লাস
সাধারণ হোটেল ২০২৩ সালের দাম · সূত্র - কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্ট শ্রীমঙ্গল শহর
- দেশি-বিদেশি খাবারে এক বেলা, জনপ্রতি (২০০-৩০০ টাকা) · ৳৩০০/প্লেট
ভালো রেস্টুরেন্ট ২০২৫ সালের দাম · সূত্র
চেখে দেখুন
- সাত রঙের চা শ্রীমঙ্গলের নীলকণ্ঠ টি কেবিন প্রতি গ্লাস মোটামুটি ৭০–১০০ টাকা
- শ্রীমঙ্গলের আনারস শ্রীমঙ্গল বাজারে আর কমলগঞ্জ সড়কের পাশের দোকানগুলোতে
- চুঙ্গাপুড়া পিঠা জানুয়ারির মাঝামাঝি পৌষসংক্রান্তির সময় বড়লেখা, জুড়ী, রাজনগর আর কমলগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে; দোকানে খুব একটা মেলে না
- শ্রীমঙ্গলের লেবু শ্রীমঙ্গলের পুরান বাজার ও নতুন বাজারের লেবুর আড়ত, আর কমলগঞ্জের ভানুগাছ, আদমপুর ও শমসেরনগর বাজার
- হাইল হাওরের মাছ শ্রীমঙ্গলের কালাপুর ইউনিয়নে বরুণা ঘাট বাজার (সকাল ৭টা–১০টা); শ্রীমঙ্গল শহরের ভাতের হোটেল
দামগুলো কোথা থেকে
শ্রীমঙ্গলের হিসাব: ২০২৫ সালের একটি ভ্রমণ গাইড বলছে, পানসী বা পাঁচ ভাই হোটেলে এক বেলা খেতে ১০০-১৫০ টাকা লাগে, কুটুমবাড়ি বা গ্র্যান্ড তাজে ২০০-৩০০ টাকা। ২০২৬ সালের এপ্রিলে আটজনের একটি দল গ্র্যান্ড সুলতানের কাছে ভাত, ভর্তা, রুই মাছ আর ডাল খেয়ে মোট প্রায় ২,০০০ টাকা দিয়েছে, মাথাপিছু আড়াই শ টাকার মতো। চা-নাশতার হিসাবে এক গ্লাস সাত রঙের চা ধরা আছে (২০২৩ সালে ৭০-৮০ টাকা)। সকালের নাশতার দাম আন্দাজে ধরা।
দাম সংবাদপত্র আর রেস্টুরেন্টের নিজস্ব তথ্য থেকে; সময়ের সঙ্গে বদলায়।
এই জেলার হাতের কাজ বা খাবার পাবেন আমাদের দোকানে।



