
খুলনা Khulna
সুন্দরবনে যাওয়ার শহর, চিংড়ির নদীর দেশ
সুন্দরবনের বেশির ভাগ লঞ্চ ছাড়ে খুলনা থেকে। রূপসার পাড়ের এই নদীবন্দর খাটুনির শহর। পাটকল, চিংড়ির ঘের আর ঘাটে ঘাটে সারা দিন ব্যস্ততা। শহর ছাড়িয়ে একটু গেলেই অন্য রকম দক্ষিণ‑পশ্চিম। পদ্মে ছাওয়া বিল, ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে জড়ানো এক পুরোনো বাড়ি, আর বনের কিনারে খুঁটির ওপর দাঁড়ানো গ্রাম।
- সুন্দরবনে নৌভ্রমণ
- চুইঝালের খাসির মাংস
- গলদা চিংড়ি
- সুন্দরবনের মধু
- রূপসা নদী
ঘোরার জায়গা
ঘোরার জায়গা খুলনা থেকে সুন্দরবন ভ্রমণ
Sundarbans cruises from Khulnaখুলনায় লঞ্চে উঠে পড়ুন। দুই দিন পর ঘুম ভাঙবে ম্যানগ্রোভের খালে, হরিণ আর মাছরাঙার মাঝে।
ঘোরার জায়গা রূপসা নদী ও খান জাহান আলী সেতু
Rupsha riverfront and Khan Jahan Ali Bridgeচওড়া রূপসায় মালবাহী নৌকা, ফেরি আর জেলেনৌকার ভিড়। সেতুর ওপারে সূর্য ডোবা দেখতে বিকেলে চলে আসুন।
ঘোরার জায়গা দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স
Dakshindihi Rabindra Complexরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর বাবার বাড়ি। ফুলতলায় নিরিবিলি একটা স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে রাখা।
প্রতীকী ছবি ঘোরার জায়গা ভুতিয়ার পদ্মবিল
Bhutiar Padma Bilতেরখাদায় বিশাল এক বিল। ভোরের আলোয় সেখানে গোলাপি পদ্ম ফোটে।
ঘোরার জায়গা খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর
Khulna Divisional Museumখুলনা অঞ্চলের প্রধান জাদুঘর। বাগেরহাট, বারবাজার আর ভরত ভায়নার খননে পাওয়া জিনিস এক ছাদের নিচে দেখা যায়।
প্রতীকী ছবি ঘোরার জায়গা গল্লামারী বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ
Gollamari Killing Field Memorialএকাত্তরে খুলনা অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে এখন এখানে স্মৃতিসৌধ।
খাবার
খাবার চুইঝাল দিয়ে খাসির মাংস
Chui jhal muttonচুইঝালের টুকরা দিয়ে রাঁধা মাখোমাখো খাসির মাংস। চুই গোলমরিচ জাতের লতা, মুখে দিলে জিভে ঝিনঝিন করে, গা গরম হয়ে ওঠে।
প্রতীকী ছবি খাবার গলদা চিংড়ি
Golda chingriদক্ষিণ‑পশ্চিমের ঘেরে চাষ করা বড় বড় গলদা চিংড়ি। রান্না হয় নারকেলের দুধে, নয়তো সরষের ঝোলে।
খাবার সুন্দরবনের মধু
Sundarbans honeyম্যানগ্রোভের ফুল থেকে আসা বুনো মধু। প্রতি বসন্তে মৌয়ালরা বনে ঢুকে সংগ্রহ করেন।
খাবার ইন্দ্রমোহনের রসগোল্লা আর সন্দেশ
Indromohon's Rosogolla and Sandeshহেলাতলা রোডে খুলনার সবচেয়ে পুরোনো নামী মিষ্টির দোকানের রসগোল্লা, সন্দেশ আর মাটির হাঁড়ির দই।
খাবার রূপসা ঘাটের সন্ধ্যার খাবার
Rupsha Ghat Evening Snacksসন্ধ্যায় রূপসা নদীর পাড়ের দোকানে ঘুগনি, মাটন চপ, পোড়া রসুন আর চা।
ঐতিহ্য
কোথায় থাকবেন
সব জেলার হোটেল ভাড়া দেখুন →- সাধারণ হোটেল
- ৳১,০০০–২,৫০০
- ভালো হোটেল
- ৳২,১০০–৩,৫০০
- অভিজাত রিসোর্ট
- ৳৫,৭৫০–১৬,৫০০
এই জেলার দামের সীমাটা আশপাশের জেলা দেখে আনুমানিক ধরা। নিচে কোনো হোটেলের নাম থাকলে, তার দাম আলাদা সূত্র থেকে নেওয়া।
হোটেলের নাম ও দাম (২টি)
- টাইগার গার্ডেন ইন্টারন্যাশনাল হোটেল খুলনা শহর
- হোটেল ক্যাসেল সালাম খুলনা শহর
দামগুলো কোথা থেকে
মাঝারি আর দামি স্তরের দাম হোটেলগুলোর নিজেদের ওয়েবসাইটের ২০২৬ সালের ভাড়ার তালিকা থেকে (হোটেল ক্যাসেল সালাম: স্ট্যান্ডার্ড সিঙ্গেল ২,১০৯-২,৯৫২, সুপিরিয়র ৫,৭৫০-৬,৮৫২, স্যুট ৮,৫৬৫-১৬,৪৭০; টাইগার গার্ডেন ইন্টারন্যাশনাল: ডিলাক্স ৩,০০০-৩,৩০০, স্যুট ৩,২০০-১০,০০০)। শহরের সাধারণ আবাসিক হোটেলের ভাড়া এখনো আনুমানিক।
দাম নেওয়া হয়েছে সংবাদপত্র, পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট আর হোটেলের নিজেদের দেওয়া তথ্য থেকে। বুক করার আগে হোটেলে ফোন করে দামটা জেনে নিন।
কোথায় খাবেন, খরচ কত
এই জেলায় দিনে জনপ্রতি থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে মোটামুটি ৳৮৫০–২,৫০০
কম দামটা সাধারণ হোটেল আর সাধারণ খাওয়া ধরে, বেশিটা ভালো হোটেল আর ভালো রেস্টুরেন্ট ধরে। দুজন এক রুমে থাকবেন ধরে জনপ্রতি রুম ভাড়ার অর্ধেক যোগ করেছি। যাতায়াত, টিকিট আর অভিজাত হোটেল‑রেস্টুরেন্টের খরচ এর বাইরে।
রেস্টুরেন্ট আর খাবারের দাম (৪টি)
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ভাতের হোটেল ছেলেদের হলের সামনে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
- ভাত · ৳১৫/প্লেট
- রুই মাছ · ৳৬০/পিস
- মুরগির মাংস (৫০-৮০ টাকা) · ৳৫০/পিস
- গরুর মাংস · ৳১২০/প্লেট
সাধারণ হোটেল ২০২৪ সালের দাম · সূত্র - ইন্দ্রমোহন সুইটস হেলাতলা রোড, বড় বাজার, খুলনা শহর
- রসগোল্লা বা পানতুয়া · ৳২০/পিস
- চমচম বা দানাদার · ৳১০/পিস
- সন্দেশ · ৳৫০০/কেজি
সাধারণ হোটেল ২০২৬ সালের দাম · সূত্র - গোলামের পুরি শেরেবাংলা রোড, পাওয়ার হাউস মোড়ের কাছে, খুলনা শহর
- আলুপুরি · ৳২/পিস
সাধারণ হোটেল ২০২৩ সালের দাম · সূত্র - জিরো পয়েন্টের চুইঝালের দোকান জিরো পয়েন্ট, খুলনা শহর
- চুইঝাল দিয়ে গরুর মাংস · ৳১৬০/বাটি
- চুইঝাল দিয়ে খাসির মাংস · ৳১৮০/বাটি
- ভাত · ৳২০/প্লেট
ভালো রেস্টুরেন্ট ২০২৩ সালের দাম · সূত্র
চেখে দেখুন
- চুইঝাল দিয়ে খাসির মাংস ডুমুরিয়ার চুকনগর বাজারের হোটেলে, আর খুলনা শহরের অনেক রেস্তোরাঁয় প্লেটপ্রতি আনুমানিক ৩০০–৪৫০ টাকা
- গলদা চিংড়ি খুলনা শহরের মাছবাজার আর স্থানীয় রেস্তোরাঁয় আকারভেদে দাম আলাদা, মোটামুটি কেজি ৮০০–১৪০০ টাকা
- সুন্দরবনের মধু খুলনা শহর আর কয়রার বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছে কেজিপ্রতি আনুমানিক ৯০০–১৫০০ টাকা
- ইন্দ্রমোহনের রসগোল্লা আর সন্দেশ ইন্দ্রমোহন সুইটস, হেলাতলা রোড, কালীবাড়ি ঘাটের কাছে, খুলনা শহর
- রূপসা ঘাটের সন্ধ্যার খাবার সন্ধ্যায় খুলনা শহরের রূপসা ঘাটের (সাত নম্বর ঘাটের আশপাশে) দোকানগুলোতে
দামগুলো কোথা থেকে
সস্তা হোটেলের হিসাব খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ভাতের হোটেলগুলোর ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালের দামের তালিকা থেকে (প্রতি প্লেট ভাত ১৫ টাকা, রুই মাছ ৬০, মুরগি ৫০-৮০, গরু ১২০, ডিম ২৫)। মাঝারি হিসাব জিরো পয়েন্টের চুইঝালের দোকান থেকে (২০২৩ সালে গরু ১৬০, খাসি ১৮০, ভাত প্লেট ২০ টাকা)। চা-নাশতার হিসাব গোলামের পুরি (২০২৩ সালে প্রতিটি ২ টাকা) আর ইন্দ্রমোহনের মিষ্টি (২০২৬ সালে প্রতিটি ১০-২০ টাকা) থেকে। সকালের নাশতার দাম আন্দাজে ধরা।
দাম সংবাদপত্র আর রেস্টুরেন্টের নিজস্ব তথ্য থেকে; সময়ের সঙ্গে বদলায়।



